দৃষ্টি আকর্ষন
সব সময় সর্বশেষ সংবাদ জানতে দৈনিক দেশপ্রেম নিজে পড়ুন এবং অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করুন ........... আপনার এলাকার যে কোন সংবাদ আমাদের ছবিসহ জানান-আমরা সেটি প্রকাশ করবো দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায়, নিউজ পাঠান dailydeshprem@gmail.com এই ইমেইলে ............ আপনার পণ্যের খবর সকলের কাছে দ্রুত পৌছাতে দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন ..........
শিরোনাম :
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের আলোচনা সভা, সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সনদে জরুরি সংশোধন হচ্ছে : ড. আলী রীয়াজ জুলাই সনদ স্বাক্ষর নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত মনে করছি : মঈন খান জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে তিন দাবিতে অবস্থান জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জাতীয় ঐক্যের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে : জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাহিদ কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্টদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না : সালাহউদ্দিন তারেক রহমানের ৩১ দফার আংশিক প্রতিফলন জুলাই সনদে হয়েছে : এমরান সালেহ প্রিন্স ঠাকুরগাঁওয়ে সার কীটনাশক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে : ফারুক হাসান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত
যেভাবে নিজের পতন ডেকে আনেন বশির

যেভাবে নিজের পতন ডেকে আনেন বশির

৬ জুলাই ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): প্রায় ৩০ বছর ধরে সুদান শাসন করেছেন ওমর হাসান আল বশির। এই তিন দশকে বহু অভ্যুত্থান, বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঠেকিয়ে টিকে ছিলেন তিনি। অবশেষে গত মাসেই তার পতন ঘটলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক রাজনীতি বুঝতে না পারা ও একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েই নিজের পতন ডেকে এনেছেন বশির। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে ঠিক কীভাবে তার এই দীর্ঘ শাসনের ইতি ঘটলো। মানবজমিন-এর পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

১০ই এপ্রিল রাতে সুদানের গোয়েন্দা প্রধান সালাহ গোশ প্রেসিডেন্ট ওমর হাসান আল বশিরের সঙ্গে তার প্রাসাদে গিয়ে দেখা করেন। ওই বৈঠকে গোশ প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেন যে, চলমান গণবিক্ষোভ তার শাসনের প্রতি কোনো হুমকিই নয়।

অথচ, ৪ মাস ধরে রাজপথে বশিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার সুদানি। তারা গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক দুর্দশা অবসানের দাবিতে  আন্দোলন করছিলেন। আন্দোলনকারীরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরেও তাঁবু স্থাপন করেছিলেন।
গোশ ও বশিরের মধ্যে ওই বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা সহ মোট চারটি সূত্র জানান, গোশ তখন বলেছিলেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে  প্রতিবাদকারীদের জটলা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে অথবা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

গোশের কথায় আশ্বস্ত হয়ে শান্তিতে ঘুমাতে যান বশির। ৪ ঘণ্টা পর ঘুম থেকে জেগে উঠে বশির বুঝে যান যে, সালাহ গোশ তার সঙ্গে
বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। প্রাসাদ রক্ষীরা সব চলে গেছেন। তাদের স্থলে প্রাসাদে অবস্থান নিয়েছে নিয়মিত সৈন্যরা। বশিরের বুঝতে আর বাকি  রইলো না যে, তার ৩০ বছরের শাসনের ইতি ঘটেছে।
এই চূড়ান্ত সময়ে বশিরের সঙ্গে অল্প যে কয়েকজন ব্যক্তি কথা বলেছেন, তাদের একজন জানান, এই অবস্থা দেখে প্রেসিডেন্ট নামাজ পড়তে চলে  যান। তার ভাষ্য, ‘নামাজ পড়া পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করে সেনা কর্মকর্তারা।’ কর্মকর্তারা বশিরকে জানান যে, সুদানের হাই সিকিউরিটি  কমিটি (যার সদস্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনা, গোয়েন্দা ও পুলিশ প্রধান) তাকে ক্ষমতাচ্যুত করছে। কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে,  দেশের নিয়ন্ত্রণ আর তার হাতে নেই।

প্রাসাদ থেকে বশিরকে রাজধানী খার্তুমের কোবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! ঠিক এই কারাগারেই তিনি নিজের  হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পুরেছিলেন। তিনি এখনও ওই কারাগারেই রয়েছেন। ৩০ বছর ধরে যে বশির শক্ত হাতে বহু বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান চেষ্টা ঠেকিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে কাঁচকলা দেখিয়েছেন, সেই বশিরের বিরুদ্ধে এই অভ্যুত্থান যেন অত্যন্ত নিখুঁত ও মসৃণ ছিল। সবকিছু ঘটে যাওয়ার আগে বশির টেরই পাননি।

একজন সাবেক মন্ত্রী, বশিরের অন্দরমহলের একজন সদস্য ও অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় সরাসরি জড়িত একজন ব্যক্তি সহ মোট ৩টি সূত্র বশিরের  পতনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে: বশির হয়তো সুদানের অভ্যন্তরীণ ইসলামিস্ট প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ও সামরিক অংশগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ভীষণ দক্ষ  ছিলেন, কিন্তু পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্যে তিনি একাকী হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বর্ণনা করেন কীভাবে বশির সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নিজের  গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছেন। অথচ, ইতিপূর্বে আরব আমিরাতই সুদানের রাজকোষে কয়েক বিলিয়ন ডলার ঢেলেছিল। বশির অবশ্য ইয়েমেনে আমিরাতের স্বার্থ ঠিকঠাক মতোই রক্ষা করেছিলেন (ইয়েমেনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রক্সি লড়াই চলছে আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের)। কিন্তু ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ যখন দেশের অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয় আকার ধারণ করে, পাশাপাশি রাজপথ দখলে নেয় বিক্ষোভকারীরা, বশির দেখতে পেলেন তার পাশে আর নেই ক্ষমতাধর, সম্পদশালী মিত্র আমিরাত।

সূত্রগুলো আরও জানায়, সামরিক জেনারেলরা বশিরের বিরুদ্ধে চলে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সালাহ গোশ  কারাবন্দি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের সমর্থন চান। অভ্যুত্থানের কয়েকদিন আগে, গোশ অন্তত একবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের  গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে আগেভাগেই জানিয়ে দেন কী ঘটতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আরব আমিরাত ও সৌদি আরব  সরকার কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও, জুনে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ টুইটারে বশিরের পতনের পর লিখেছিলেন,  সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সুদানের সকল বিরোধী পক্ষ ও সামরিক পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। গারগাশ আরও বলেন, বশিরের দীর্ঘ
একনায়কতন্ত্র ও মুসলিম ব্রাদারহুডের পর এখন সংবেদনশীল সময় চলছে সুদানে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত, মুসলিম ব্রাদারহুড বশিরের  মিত্র ছিল।

অথচ, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেও বশির ও আরব আমিরাতের সম্পর্ক অনেক উষ্ণ ছিল। সেবার বশির আমিরাতে গিয়ে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ  বিন জায়েদের সঙ্গে আবুধাবিতে সাক্ষাত করেন। অপরদিকে ইয়েমেনে সৌদি-আমিরাত নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে অংশ নেয় ১৪ হাজার সুদানি  সেনা।

তবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ (সংক্ষেপে যাকে এমবিজেড ডাকা হয়) অন্য আরেক ক্ষেত্রেও বশিরের সহযোগিতা চাইছিলেন। আর তা  ছিল, ইসলামিস্ট বা ব্রাদারহুডকে দমন করতে হবে। সুদানি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানান।
রাজনৈতিক ইসলাম, অর্থাৎ ব্রাদারহুডকে ঠেকাতে আঞ্চলিক তৎপরতার নেতৃত্বে ছিল আমিরাত। সৌদি ও আমিরাত মনে করে, তাদের রাজতন্ত্রী  শাসন ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি ব্রাদারহুড। ২০১১ সাল থেকে এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয় সৌদি আরব ও আরব
আমিরাতের। কারণ সেই বছরই পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে বয়ে যায় আরব বসন্ত, যার সবচেয়ে বেশি লাভ ঘরে তোলে মুসলিম ব্রাদারহুড। সৌদি ও আমিরাত ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। তবে ব্রাদারহুডের দাবি তারা শান্তিপূর্ণ।
২০১২ সালে মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। মাত্র ১ বছর পরই তাকে উৎখাত করে  সেনাবাহিনী। পরবর্তী ১৮ মাসে সেনা শাসনাধীন মিশরকে সাহায্য হিসেবে ২৩০০ কোটি ডলার পাঠায় সৌদি আরব, আমিরাত ও কুয়েত। সুদানে  ইসলামিস্টদের প্রভাব মিশরের চেয়েও বেশি। বশির নিজেও একটি ইসলামিস্ট জান্তার প্রধান হিসেবে ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা দখল করেন। দেশটির  সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী ও প্রধান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণেও ইসলামিস্টরা। ওই বৈঠকে বশির ও এমবিজেড ঐক্যমত্যে পৌঁছেন যে, বশির  ইসলামিস্টদের উৎখাত করবেন, বিনিময়ে সুদানকে আর্থিক সহায়তা দেবে আমিরাত। কিন্তু বশির বলেননি কীভাবে তিনি ইসলামিস্টদের দমন করবেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© Copyright 2012 Daily Deshprem Design & Developed By Mahmud IT